২০২৫ সালের মাঝামাঝি বঙ্গবন্ধু ২ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন : ভেসভাল

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২০:০৭  

প্রতিমন্ত্রী পলকের সাথে এয়ারবাস ভাইস প্রেসিডেন্টের সাক্ষাত

রবিবার আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারের আইডিয়া ফ্লোরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ফান্সের এয়ারবাস ডিফেন্স এন্ড স্পেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টেফেন ভেসভাল। এসময় ‘বাংলাদেশে শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নির্মাণের কাজ শুরু হবে’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ভেসভাল জানান, পৃথিবী পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় উপগ্রহটি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে উৎক্ষেপণ করা হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মেরি মাসদুপুই (Marie MASDUPUY) এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ, এটুআই নীতি উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এস এম জাফরউল্লাহ্, স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ প্রমুখ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতকালে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার বিষয়ে ফ্রান্স সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। প্রতিমন্ত্রী ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশের সাফল্য এবং ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট এবং স্মার্ট সোসাইটি এ চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সৌজন্য সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ফ্রান্স এবং বাংলাদেশ একসাথে অর্থনৈতিক ডিপ্লোমেসিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য আমরা আরো এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, স্পেস ইন্ডাস্ট্রিতে দেশের ছাত্র, গবেষক এবং স্টার্টআপদের স্কিল ডেভেলপ করার জন্য এবং পরবর্তী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের বিষয়ে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) এবং বঙ্গবন্ধু-২ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম সম্পর্কিত ফ্রান্সের এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেসের সাথে ইতোমধ্যে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) চুক্তি হয়েছে। তিনি আরো বলেন সরকারি-বেসরকারি ও একাডেমিয়ার সম্মিলিত সহযোগিতায় আর্থ অবজারভেটিভ স্যাটেলাইট কন্সট্রাকশন করা হবে।

পলক বলেন কৃষি-মৎস্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ব্লু ইকোনমি রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় প্রতিরক্ষা নিরাপত্তায় নিজস্ব আর্থ অবজারভেটিভ স্যাটেলাইট দরকার। গ্রাউন্ড স্টেশন, ডেটা রিসিভিং সেন্টার, প্রসেসিং, অ্যানালেটিক্সসহ সবকিছুই বাংলাদেশের মাটিতে হবে। এরই লক্ষ্যে ফ্রান্স এবং বাংলাদেশ একত্রিত হয়ে মেইড ইন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট লঞ্চ করা হবে বলেও তিনি জানান।

পরে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

প্রসঙ্গত, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চিত করার পরও মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিমানের বহরে বোয়িংয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য। সেই বহরে একই ধরনের উড়োজাহাজের অন্তর্ভুক্তি যে ব্যয়সাশ্রয়ী হবে, তা বোঝানোর চেষ্টায় আছে বোয়িং। সে সঙ্গে বিপুল ছাড়ে কার্গোবাহী ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। এয়ারবাসও উড়োজাহাজ পরিচালনায় সক্ষম জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটির (বিএসএমআরএএউ) সঙ্গে এরই মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই বৈঠক সৌজন্যের চেয়েও অধিক অর্থনীতি ও কুনটীতি কেন্দ্রিক বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।